অপরাধীদের জামিনে সরকারি আইনজীবীদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন। সরকার বিচার বিভাগে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করে না। টেলিফোন করে কাউকে জামিন দেয়া বা না দেয়ার নির্দেশ দেয়ার প্রশ্নই আসে না। সরকারি কৌঁসুলিরা আইনগতভাবে জামিনের বিরোধিতা করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।
তিনি বলেন, কোনো মামলায় সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় মৃদু আপত্তি জানালে বা আপত্তি না তুললে সাংবাদিকদের তথ্য-প্রমাণসহ সংবাদ প্রকাশ করতে হবে। এ বিষয়ে তথ্য পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
রূপসা ঘাটে অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগ
রূপসা ঘাটে যাত্রী পারাপারে অতিরিক্ত টাকা আদায় এবং সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, জনগণের ভোগান্তির জন্য হাতে গোনা কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তি বা গডফাদারের দায় সরকার নেবে না। তার দলের কেউ জড়িত থাকলেও কোনো ছাড় দেয়া হবে না।
রূপসা ঘাটের অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, নদী পার হওয়ার পর মানুষের ব্যাগ পারাপারের জন্যও আলাদা চার্জ নেয়া হচ্ছে। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি জেলা প্রশাসককে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সম্ভব হলে পরদিন থেকেই সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
রূপসা সেতুর সড়ক নির্মাণে ‘মহাদুর্নীতি’
রূপসা সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগকে ‘মহাদুর্নীতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ৩ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার সড়কটির কাজ ৯৫ শতাংশের বেশি শেষ হয়েছে দেখিয়ে চতুর্থবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল। অথচ প্রকল্পটির ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৮০ কোটি টাকা।
আইনমন্ত্রী বলেন, ২০২২ সালে টেন্ডার হওয়া সড়কটির প্রাথমিক ব্যয় ছিল প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকা। পরে তা বেড়ে ২৮০ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর প্রধানমন্ত্রী এটিকে শুধু দুর্নীতি নয়, ‘মহাদুর্নীতি’ বলে মন্তব্য করেন।
পরে মন্ত্রিসভা সচিবের নেতৃত্বে তদন্ত হয় জানিয়ে তিনি বলেন, তদন্তে রূপসা ঘাট এলাকায় সড়ক নির্মাণকে ঘিরে বড় ধরনের দুর্নীতির চিত্র পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, রূপসা ঘাটে পাঁচ-দশজন ব্যক্তি লাভবান হওয়ার জন্য পুরো দলের বদনাম সরকার মেনে নেবে না। প্রশাসনকে আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
সন্ত্রাস দমনে আরও কঠোর আইন প্রণয়নের ইঙ্গিত
আইনমন্ত্রী বলেন, ক্রসফায়ার বন্ধ থাকলেও সন্ত্রাস দমনে প্রয়োজনে আরও কঠোর আইন প্রণয়ন করা হবে।
মাদক নিয়ন্ত্রণে ডোপ টেস্ট চালুর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শৈলকূপা ও ঝিনাইদহে এ পদ্ধতি কার্যকরভাবে কাজ করছে। মাদকাসক্ত বা মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে আটক ব্যক্তির ঘটনাস্থলেই পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষায় পজিটিভ হলে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সামারি ট্রায়ালের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
‘গত ১৭ বছরেরাষ্ট্রযন্ত্রে পচন ধরেছিল’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে রাষ্ট্রযন্ত্রে পচন ধরেছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত ও ৩০ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এসব ঘটনায় জড়িত অনেকেই এখনও চাকরিতে বহাল রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্রের আবর্জনা পরিষ্কার করতে সরকারকে সময় দিতে হবে।
সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রমের সমালোচনার জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তন ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে। এ সময় মন্ত্রীদের জ্বালানি বরাদ্দ ৩০ শতাংশ কমানো এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল কমানোর বিষয়ও তুলে ধরেন তিনি।
সভায় জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, এমপি আজিজুল বারি হেলাল, এমপি আমির এজাজ খান, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মনজু, ওয়াসার প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান মনি, কেডিএ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা, জেলা পরিষদ প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পিসহ প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও সাংবাদিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেস্ক রিপোর্ট: 













