ঢাকা ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সুবর্ণচরে শ্রমিকদল নেতার বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় মারধরের দাবি পেশাগত দক্ষতা ও সাফল্যে টানা দ্বিতীয়বার পুরস্কৃত এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন নিষেধাজ্ঞার শেষ দিনেও মেঘনায় ইলিশ শিকারের অভিযোগ, নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন রামগঞ্জে সম্পত্তি বিরোধে সংঘর্ষের ঘটনা আটক ৪ রামগঞ্জে ইউপি মেম্বারকে প্রাননাশের হুমকি রামগঞ্জে ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্পেনিং এবং ঔষধ বিতরন উদ্ভোধন দলীয় সমর্থন নিশ্চিত নয়, সেবার লক্ষ্য জানালেন ফারুক আল ফাহাদ এক মাস ধরে বন্ধ পরিষ্কারকাজ, দ্রুত অপসারণের দাবি এলাকাবাসীর সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৩০০ সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ও পথশিশুকে রান্না করা খাবার বিতরণ চাটখিলে আদম পাচার মামলায় ছাত্রদল ছাত্রদল নেতা আজাদ আটক

নিষেধাজ্ঞার শেষ দিনেও মেঘনায় ইলিশ শিকারের অভিযোগ, নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

  • ডেস্ক রিপোর্ট:
  • আপডেট সময় : ০৬:০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • ৯০ বার পড়া হয়েছে

মোহাম্মদ জাকির শাহ,

কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মধ্যরাতে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মেঘনা নদীতে প্রশাসনের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকলেও এর মধ্যেই অবাধে ইলিশ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিভিন্ন ঘাট থেকে নৌকা নিয়ে নদীতে নেমেছেন একশ্রেণির জেলে। এ ঘটনায় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশের অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ। ফলে মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসনের নজরদারি ও অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন মাছঘাট থেকে নানা কৌশলে নদীতে নেমে ইলিশ শিকার করেছেন কিছু জেলে। এমনকি নিষেধাজ্ঞার শেষ দিন বৃহস্পতিবার ভোরেও উপজেলার বিভিন্ন ঘাট থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বেশ কিছু নৌকাকে মেঘনা নদীর দিকে যেতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান চললেও কিছু অসাধু জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে জাল ফেলেছেন। প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় এমন কর্মকাণ্ড চলেছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।

উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কমলনগরে ছয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময়ে উপজেলার ৬৫টি মাছঘাট, ৬৪টি আড়ত ও ৮২টি মাছবাজারে অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে ১ দশমিক ০১৫ মেট্রিক টন ইলিশ এবং ১৭ লাখ ২৫ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা জালের আনুমানিক মূল্য ৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ২৪টি মামলা করা হয়েছে। জরিমানা আদায় করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে ২২ জন জেলেকে।

তবে এত অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরও নিষেধাজ্ঞা চলাকালে অবৈধভাবে ইলিশ শিকারের অভিযোগ ওঠায় অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

 

কমলনগর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তূর্য সাহা বলেন

নিষেধাজ্ঞা চলাকালে অভিযানের শুরুতে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হলেও শেষ পর্যায়ে তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন

তিনি বলেন, অভিযানের শুরুর দিকে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে এবং কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মতিনহাটসহ বিভিন্ন ঘাটে অভিযান চালিয়ে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সার্বিকভাবে অভিযান সুন্দরভাবে পরিচালনা করা হয়েছে

আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাত ১২টায় নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে জেলেরা আবারও মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে পারবেন। তবে নিষেধাজ্ঞার শেষ দিনেও নদীতে মাছ ধরতে নৌকা যাওয়ার অভিযোগ এবং পুরো অভিযানের সময় অবৈধভাবে ইলিশ শিকারের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সুবর্ণচরে শ্রমিকদল নেতার বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় মারধরের দাবি

নিষেধাজ্ঞার শেষ দিনেও মেঘনায় ইলিশ শিকারের অভিযোগ, নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৬:০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

মোহাম্মদ জাকির শাহ,

কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মধ্যরাতে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মেঘনা নদীতে প্রশাসনের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকলেও এর মধ্যেই অবাধে ইলিশ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিভিন্ন ঘাট থেকে নৌকা নিয়ে নদীতে নেমেছেন একশ্রেণির জেলে। এ ঘটনায় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশের অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ। ফলে মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসনের নজরদারি ও অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন মাছঘাট থেকে নানা কৌশলে নদীতে নেমে ইলিশ শিকার করেছেন কিছু জেলে। এমনকি নিষেধাজ্ঞার শেষ দিন বৃহস্পতিবার ভোরেও উপজেলার বিভিন্ন ঘাট থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বেশ কিছু নৌকাকে মেঘনা নদীর দিকে যেতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান চললেও কিছু অসাধু জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে জাল ফেলেছেন। প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় এমন কর্মকাণ্ড চলেছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।

উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কমলনগরে ছয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময়ে উপজেলার ৬৫টি মাছঘাট, ৬৪টি আড়ত ও ৮২টি মাছবাজারে অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে ১ দশমিক ০১৫ মেট্রিক টন ইলিশ এবং ১৭ লাখ ২৫ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা জালের আনুমানিক মূল্য ৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ২৪টি মামলা করা হয়েছে। জরিমানা আদায় করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে ২২ জন জেলেকে।

তবে এত অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরও নিষেধাজ্ঞা চলাকালে অবৈধভাবে ইলিশ শিকারের অভিযোগ ওঠায় অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

 

কমলনগর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তূর্য সাহা বলেন

নিষেধাজ্ঞা চলাকালে অভিযানের শুরুতে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হলেও শেষ পর্যায়ে তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন

তিনি বলেন, অভিযানের শুরুর দিকে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে এবং কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মতিনহাটসহ বিভিন্ন ঘাটে অভিযান চালিয়ে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সার্বিকভাবে অভিযান সুন্দরভাবে পরিচালনা করা হয়েছে

আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাত ১২টায় নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে জেলেরা আবারও মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে পারবেন। তবে নিষেধাজ্ঞার শেষ দিনেও নদীতে মাছ ধরতে নৌকা যাওয়ার অভিযোগ এবং পুরো অভিযানের সময় অবৈধভাবে ইলিশ শিকারের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে