রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় পারিবারিক কলহের জেরে বিদ্যুৎ হোসেন (৩০) নামে এক অটোরিকশাচালক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে বাড্ডা থানার অধীনস্থ মেরুল বাড্ডার স্বাধীন বাংলা এলাকার একটি হাঁস-মুরগির আড়ত সংলগ্ন স্থান থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
বিদ্যুৎ হোসেন নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার চনপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম হানিফ ভান্ডারী। তিনি বাড্ডা থানাধীন আনন্দবাজার এলাকায় বসবাস করতেন এবং পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন।
বিদ্যুতের স্ত্রী রূপালী বেগম জানান, ৮ বছরের বিবাহিত জীবনে তাদের ৭ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন দাম্পত্য জীবন সুখে কাটলেও বিগত প্রায় দেড় মাস ধরে তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। কলহের জেরে তিনি মেরুল বাড্ডায় নিজের বোনের বাসায় উঠে এবং তিনি বাসা বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন।
রূপালী বেগম বলেন, শনিবার রাতে বিদ্যুতের সঙ্গে আমার শেষ ফোনে কথা হয়। তখন সে বলেছিল, আমাকে আর ফোন দিও না। দরকার হলে মেরুল বাড্ডার স্বাধীন বাংলা এলাকার হাঁস-মুরগির আড়ত সংলগ্ন পরিত্যক্ত কার্টন ফ্যাক্টরিতে খোঁজ কোরো। পরবর্তীতে তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে আজ বেলা ১২টার দিকে সেখানে খুঁজতে যাই। সেখানে আড়তের একটি টিনশেড ঘরের ভেতরের মাচালের সাথে পরনের লুঙ্গি গলায় পেঁচিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই।
তিনি আরও জানান, তার স্বামী নিয়মিত রিকশা চালাতেন না এবং বিগত ৮-৯ মাস ধরে উক্ত পরিত্যক্ত কার্টন ফ্যাক্টরিতে বন্ধুদের আড্ডার পাশাপাশি নেশা করতেন। এছাড়া কিছু দিন আগে তিনি (স্ত্রী) কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশে যেতে চাইলে বিদ্যুৎ তাতে বাধা দেন, যা নিয়ে তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হতো। মূলত এসব বিষয় ও রাগ-অভিমান থেকেই এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জয়ন্ত দত্ত জানান, দুপুর দেড়টার দিকে খবর পেয়ে মেরুল বাড্ডার স্বাধীন বাংলা এলাকার একটি টিনশেড ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এসআই জয়ন্ত দত্ত আরও জানান, স্বজনদের মাধ্যমে জানা গেছে নিহতের সঙ্গে তার স্ত্রীর পারিবারিক বিরোধ চলছিল। স্ত্রীকে ভরণপোষণ না দেয়া ও পারিবারিক কলহের জেরে অভিমানে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
ডেস্ক রিপোর্ট: 









