ঢাকা ০৯:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সুবর্ণচরে শ্রমিকদল নেতার বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় মারধরের দাবি পেশাগত দক্ষতা ও সাফল্যে টানা দ্বিতীয়বার পুরস্কৃত এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন নিষেধাজ্ঞার শেষ দিনেও মেঘনায় ইলিশ শিকারের অভিযোগ, নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন রামগঞ্জে সম্পত্তি বিরোধে সংঘর্ষের ঘটনা আটক ৪ রামগঞ্জে ইউপি মেম্বারকে প্রাননাশের হুমকি রামগঞ্জে ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্পেনিং এবং ঔষধ বিতরন উদ্ভোধন দলীয় সমর্থন নিশ্চিত নয়, সেবার লক্ষ্য জানালেন ফারুক আল ফাহাদ এক মাস ধরে বন্ধ পরিষ্কারকাজ, দ্রুত অপসারণের দাবি এলাকাবাসীর সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৩০০ সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ও পথশিশুকে রান্না করা খাবার বিতরণ চাটখিলে আদম পাচার মামলায় ছাত্রদল ছাত্রদল নেতা আজাদ আটক

৪০ বছরের ভোগদখলি জমি নিয়ে বিপাকে এক পরিবার।

  • ডেস্ক রিপোর্ট:
  • আপডেট সময় : ০৩:০৩:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৯৭ বার পড়া হয়েছে

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:

কমলনগরে ১৯৯২ সালের দলিলের জমি জমা-খারিজ না করে ১৯৯৬ সালের দলিলের মালিকের নামে ১৭ শতক জমি খারিজ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দায়ের করা দুটি মিস মামলা খারিজ হওয়ায় ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী পরিবার। পাশাপাশি ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে ৩ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ ও নগদ ছয় হাজার টাকা গ্রহণ।

ভুক্তভোগী হাজী বিল্লাল হোসেনের মেজো ছেলে আনোয়ার হোসেনের অভিযোগ, ১৯৯২ সালে মোস্তফা খাতুনের কাছ থেকে ৮৮৭৮ ও ৮৮৭৯,৮৮৭৯ দাগে তিনটি দলিল মূলে ১৪৬ শতাংশ জমি কেনেন তার বাবা। ওই জমিতে প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বাড়ি-ঘর করে বসবাস করছেন।

গত ৯ মার্চ ২০২৫ সালে ওই ১৪৬ শতাংশ জমি বাবার নামে জমা-খারিজের আবেদন করেন আনোয়ার। কিন্তু তৎকালীন সহকারী কমিশনার ভূমি শামসুদ্দিন মো. রেজা ১৪৬ শতক থেকে ১৭ শতক কেটে ১৯৬ সালের দলিলের দাতা হাজী নুর নবীর নামে জমা-খারিজ করে দেন বলে অভিযোগ। ওই খারিজ খতিয়ান নম্বর ৩০৯২।
এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে আনোয়ার হোসেন গত ৮ সেপ্টেম্বর ১৫৮০ ও ১৬ সেপ্টেম্বর ১৫৮৭ নম্বরে এবং ৩০৯২ ও ২৯৯৮ খতিয়ানের বিরুদ্ধে মিস মামলা দায়ের করেন।
কিন্তু বর্তমান সহকারী কমিশনার ভূমি মোহাম্মদ আরাফাত হুসাইন গত ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দুটি মিস মামলাই খারিজ করে দেন।

আনোয়ার হোসেনের অভিযোগ, “সার্ভেয়ার আব্দুল্লাহ আল মামুন আমার কাছে ৩ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন এবং নগদ ৬ হাজার টাকা নেন। এরপরই আমার ১৭ শতক জমি জেটা নুর নবীর নামে তদন্ত রিপোর্ট করে দেন।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সার্ভেয়ার আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘুষ দাবি ও গ্রহণের কথা অস্বীকার করেন।
হাজী নুর নবী বলেন, “আমাদের সব কাগজপত্র আছে। দুই পক্ষ বসে সমাধান করা যাবে। যদি বিল্লাল হোসেনরা জমি পান, দিয়ে দেওয়া হবে।”
সহকারী কমিশনার ভূমি মোহাম্মদ আরাফাত হুসাইন বলেন, “সার্ভেয়ার ঘুষ চেয়ে থাকলে লিখিত অভিযোগ দিন, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, গত ১৩ সেপ্টেম্বর এসিল্যান্ড আরাফাত হুসাইন তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ লিখে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তিনি কখনো এক টাকাও ঘুষ খাননি এবং ৩০৯২ নম্বর খতিয়ানের জমা-খারিজ তিনি দেননি। এবং খতিয়ানটি লাল কালি দিয়ে মুছে পোস্ট করেন। এবং ৯৫০২ দাগে আর জমা-খারিজ হবে না বলেও জানান।

এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন তুলেছেন, সংবাদ সংগ্রহের জন্য কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়া কি অপরাধ? এবং অনুমতি ছাড়া সাংবাদিকদের ছবি তুলে ফেসবুকে দেওয়া কতটুকু যুক্তিযুক্ত? লাল কালি দিয়ে ৩০৯২ জমা খারিজ খতিয়ানে মুছে দেয়া বুঝা যাচ্ছে এ জমা খারিজ বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সুবর্ণচরে শ্রমিকদল নেতার বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় মারধরের দাবি

৪০ বছরের ভোগদখলি জমি নিয়ে বিপাকে এক পরিবার।

আপডেট সময় : ০৩:০৩:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:

কমলনগরে ১৯৯২ সালের দলিলের জমি জমা-খারিজ না করে ১৯৯৬ সালের দলিলের মালিকের নামে ১৭ শতক জমি খারিজ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দায়ের করা দুটি মিস মামলা খারিজ হওয়ায় ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী পরিবার। পাশাপাশি ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে ৩ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ ও নগদ ছয় হাজার টাকা গ্রহণ।

ভুক্তভোগী হাজী বিল্লাল হোসেনের মেজো ছেলে আনোয়ার হোসেনের অভিযোগ, ১৯৯২ সালে মোস্তফা খাতুনের কাছ থেকে ৮৮৭৮ ও ৮৮৭৯,৮৮৭৯ দাগে তিনটি দলিল মূলে ১৪৬ শতাংশ জমি কেনেন তার বাবা। ওই জমিতে প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বাড়ি-ঘর করে বসবাস করছেন।

গত ৯ মার্চ ২০২৫ সালে ওই ১৪৬ শতাংশ জমি বাবার নামে জমা-খারিজের আবেদন করেন আনোয়ার। কিন্তু তৎকালীন সহকারী কমিশনার ভূমি শামসুদ্দিন মো. রেজা ১৪৬ শতক থেকে ১৭ শতক কেটে ১৯৬ সালের দলিলের দাতা হাজী নুর নবীর নামে জমা-খারিজ করে দেন বলে অভিযোগ। ওই খারিজ খতিয়ান নম্বর ৩০৯২।
এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে আনোয়ার হোসেন গত ৮ সেপ্টেম্বর ১৫৮০ ও ১৬ সেপ্টেম্বর ১৫৮৭ নম্বরে এবং ৩০৯২ ও ২৯৯৮ খতিয়ানের বিরুদ্ধে মিস মামলা দায়ের করেন।
কিন্তু বর্তমান সহকারী কমিশনার ভূমি মোহাম্মদ আরাফাত হুসাইন গত ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দুটি মিস মামলাই খারিজ করে দেন।

আনোয়ার হোসেনের অভিযোগ, “সার্ভেয়ার আব্দুল্লাহ আল মামুন আমার কাছে ৩ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন এবং নগদ ৬ হাজার টাকা নেন। এরপরই আমার ১৭ শতক জমি জেটা নুর নবীর নামে তদন্ত রিপোর্ট করে দেন।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সার্ভেয়ার আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘুষ দাবি ও গ্রহণের কথা অস্বীকার করেন।
হাজী নুর নবী বলেন, “আমাদের সব কাগজপত্র আছে। দুই পক্ষ বসে সমাধান করা যাবে। যদি বিল্লাল হোসেনরা জমি পান, দিয়ে দেওয়া হবে।”
সহকারী কমিশনার ভূমি মোহাম্মদ আরাফাত হুসাইন বলেন, “সার্ভেয়ার ঘুষ চেয়ে থাকলে লিখিত অভিযোগ দিন, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, গত ১৩ সেপ্টেম্বর এসিল্যান্ড আরাফাত হুসাইন তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ লিখে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তিনি কখনো এক টাকাও ঘুষ খাননি এবং ৩০৯২ নম্বর খতিয়ানের জমা-খারিজ তিনি দেননি। এবং খতিয়ানটি লাল কালি দিয়ে মুছে পোস্ট করেন। এবং ৯৫০২ দাগে আর জমা-খারিজ হবে না বলেও জানান।

এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন তুলেছেন, সংবাদ সংগ্রহের জন্য কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়া কি অপরাধ? এবং অনুমতি ছাড়া সাংবাদিকদের ছবি তুলে ফেসবুকে দেওয়া কতটুকু যুক্তিযুক্ত? লাল কালি দিয়ে ৩০৯২ জমা খারিজ খতিয়ানে মুছে দেয়া বুঝা যাচ্ছে এ জমা খারিজ বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে।