নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে আসামি ছাড়িয়ে দেওয়া ও মামলার ধারা পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়ে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান ও উপপরিদর্শক (এসআই) জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মামলা গুরুতর ধারা যুক্ত করা এবং এক নারীকে ধর্ষণ মামলা করতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে ঘুষ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি রফিকুল হাসান।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ২নং চরবাটা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড সেলিম বাজার এলাকায় এক প্রবাসীর স্ত্রী ও স্থানীয় যুবক সিদ্দিককে আটক করে থানায় সোপর্দ করেন এলাকার লোকজন। পরে সিদ্দিককে ছাড়িয়ে নিতে তাঁর ভাই মো. সোহাগসহ কয়েকজন থানায় যান।
অভিযোগকারীদের দাবি, এ সময় এসআই জসিম উদ্দিন মামলাটি সাধারণ ধারায় নেওয়ার কথা বলে দুই পক্ষের কাছে প্রথমে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে ৪০ হাজার টাকার কমে হবে না বলে জানানো হয়। টাকা না দিলে মামলা গুরুতর করা এবং জামিনে সমস্যা হওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ তাঁদের।
ভুক্তভোগী নারী বিউটি আক্তারের অভিযোগ, তাঁকে থানায় ওসির কক্ষে ডেকে নিয়ে ওই যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করতে চাপ দেওয়া হয়। মিথ্যা মামলা করতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়।
অন্যদিকে সোহাগের দাবি, সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করায় তাঁকেও থানায় ডেকে অপমান ও গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগকারীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পুলিশের উপর মহলের নিকট । তবে অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই বা ঘুষ দাবির পক্ষে প্রামাণ্য নথি পাওয়া যায়নি। চরজব্বর থানার ওসি রফিকুল হাসান সুবর্ণচরে যোগদানের পর অদৃশ্য এক শক্তির ইশারায় থানা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন অনেকে। জমি দখল, মাদক, নারী নির্যাতন, থানায় মামলা বাণিজ্যের একটি শক্তিশালী রমরমা সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন অভিযোগটি পুরোনো।
দেখা যায় সরেজমিনে, প্রতি দিন সন্ধ্যার পর থানার চারপাশে চা দোকান গুলোতে বসে মিনি সালিশী বৈঠক। যার তথ্য প্রমাণসহ সংরক্ষণ রয়েছে প্রতিবেদকের নিকট। আরও অভিযোগের গুঞ্জন উঠে গুটি কিছু স্থানীয় সংবাদ কর্মর্মীদের মাধ্যমে ওসি নিয়মিত নানা ঘটনায় অনৈতিক সুবিধার অর্থ ভাগবাঁটোয়ারা করেন। যার ফলে প্রকৃত ঘটনা তুলে না ধরে সিন্ডিকেটটি নিরব থেকে সব চেপে যায়। প্রকৃত সত্যি ঘটনা আড়াল করে ভিন্ন খাতে নেই দুষ্ট চক্রটি।
অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি রফিকুল হাসান বলেন, স্থানীয় লোকজন দুজনকে থানায় সোপর্দ করেছিলেন। তাঁদের ছাড়িয়ে নিতে একাধিক ব্যক্তি ফোন করলেও তিনি তাঁদের ছেড়ে দেননি; আদালতে পাঠিয়েছেন। সুপারিশ না রাখায় তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের দাবি তুলেন ভিকটিম পরিবার।
ডেস্ক রিপোর্ট: 









