ঢাকা ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সুবর্ণচরে শ্রমিকদল নেতার বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় মারধরের দাবি পেশাগত দক্ষতা ও সাফল্যে টানা দ্বিতীয়বার পুরস্কৃত এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন নিষেধাজ্ঞার শেষ দিনেও মেঘনায় ইলিশ শিকারের অভিযোগ, নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন রামগঞ্জে সম্পত্তি বিরোধে সংঘর্ষের ঘটনা আটক ৪ রামগঞ্জে ইউপি মেম্বারকে প্রাননাশের হুমকি রামগঞ্জে ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্পেনিং এবং ঔষধ বিতরন উদ্ভোধন দলীয় সমর্থন নিশ্চিত নয়, সেবার লক্ষ্য জানালেন ফারুক আল ফাহাদ এক মাস ধরে বন্ধ পরিষ্কারকাজ, দ্রুত অপসারণের দাবি এলাকাবাসীর সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৩০০ সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ও পথশিশুকে রান্না করা খাবার বিতরণ চাটখিলে আদম পাচার মামলায় ছাত্রদল ছাত্রদল নেতা আজাদ আটক

সৌদী আরবে সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল কালীগঞ্জের আব্দুল্লাহর

  • ডেস্ক রিপোর্ট:
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৩:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৫ বার পড়া হয়েছে

মোঃ মুক্তাদির হোসেন,
বিশেষ প্রতিনিধি।

পরিবারের স্বপ্নপূরণ ও স্বচ্ছলতার আশায় সাত বছর ধরে সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটাচ্ছিলেন মো. আব্দুল্লাহ (৩০)। দেশে থাকা অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী, আড়াই বছরের কন্যাসন্তান এবং বৃদ্ধ মা-বাবাকে ঘিরেই ছিল তাঁর ভবিষ্যতের সব পরিকল্পনা। কিন্তু কর্মস্থলে সহকর্মীর জীবন বাঁচাতে গিয়ে বিষাক্ত কেমিক্যালের সংস্পর্শে প্রাণ হারিয়ে সেই স্বপ্নের ইতি ঘটেছে তাঁর।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কর্মস্থলে কেমিক্যাল দূষণের ঘটনায় আব্দুল্লাহসহ চারজন বিদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নিহত আব্দুল্লাহ গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্বাটি গ্রামের সাবেক সেনাসদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনের তৃতীয় ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর ধরে রিয়াদের ‘আব্দুল লতিফ কোম্পানি’তে কর্মরত ছিলেন আব্দুল্লাহ। এ সময়ের মধ্যে তিনি দুইবার ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। সর্বশেষ প্রায় এক মাস আগে ছুটি কাটিয়ে আবার সৌদি আরবে কর্মস্থলে ফিরে যান তিনি।
নিহতের বড় ভাই মো. আসাদুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার কর্মস্থলে কাজ করার সময় হঠাৎ একটি কেমিক্যাল গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে এক সহকর্মী গুরুতরভাবে আক্রান্ত হলে আব্দুল্লাহ কোনো কিছু না ভেবে তাঁকে উদ্ধারে এগিয়ে যান। এ সময় তিনি নিজেও বিষাক্ত কেমিক্যালের সংস্পর্শে আক্রান্ত হন। পরে ঘটনাস্থলেই আব্দুল্লাহসহ আরও তিনজন বিদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয় বলে পরিবারের কাছে খবর আসে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমার ভাই সব সময় খুব পরোপকারী ছিল। নিজের কথা না ভেবে বিপদে পড়া সহকর্মীকে বাঁচাতে এগিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেই চেষ্টাই শেষ পর্যন্ত তার প্রাণ কেড়ে নিল।’ আব্দুল্লাহর মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকেই শোকের মাতম চলছে। বৃদ্ধ মা-বাবার আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে দুর্বাটি গ্রামের বাড়ির পরিবেশ। স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, স্ত্রী-সন্তান ও মা-বাবার ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করছিলেন আব্দুল্লাহ। পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি দেওয়া এই যুবকের আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। আব্দুল্লাহর স্ত্রী বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। তাঁদের আড়াই বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বাবার মৃত্যুর অর্থ বোঝার বয়সও হয়নি ছোট্ট মেয়েটির। অন্যদিকে অনাগত সন্তানটিও পৃথিবীর আলো দেখার আগেই বাবাকে হারিয়েছে।
এদিকে সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়ে আব্দুল্লাহর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রিয়াদে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোকার্ত পরিবার আব্দুল্লাহর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি তাঁর অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা কামনা করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সুবর্ণচরে শ্রমিকদল নেতার বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় মারধরের দাবি

সৌদী আরবে সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল কালীগঞ্জের আব্দুল্লাহর

আপডেট সময় : ০৩:৪৩:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোঃ মুক্তাদির হোসেন,
বিশেষ প্রতিনিধি।

পরিবারের স্বপ্নপূরণ ও স্বচ্ছলতার আশায় সাত বছর ধরে সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটাচ্ছিলেন মো. আব্দুল্লাহ (৩০)। দেশে থাকা অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী, আড়াই বছরের কন্যাসন্তান এবং বৃদ্ধ মা-বাবাকে ঘিরেই ছিল তাঁর ভবিষ্যতের সব পরিকল্পনা। কিন্তু কর্মস্থলে সহকর্মীর জীবন বাঁচাতে গিয়ে বিষাক্ত কেমিক্যালের সংস্পর্শে প্রাণ হারিয়ে সেই স্বপ্নের ইতি ঘটেছে তাঁর।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কর্মস্থলে কেমিক্যাল দূষণের ঘটনায় আব্দুল্লাহসহ চারজন বিদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নিহত আব্দুল্লাহ গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্বাটি গ্রামের সাবেক সেনাসদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনের তৃতীয় ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর ধরে রিয়াদের ‘আব্দুল লতিফ কোম্পানি’তে কর্মরত ছিলেন আব্দুল্লাহ। এ সময়ের মধ্যে তিনি দুইবার ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। সর্বশেষ প্রায় এক মাস আগে ছুটি কাটিয়ে আবার সৌদি আরবে কর্মস্থলে ফিরে যান তিনি।
নিহতের বড় ভাই মো. আসাদুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার কর্মস্থলে কাজ করার সময় হঠাৎ একটি কেমিক্যাল গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে এক সহকর্মী গুরুতরভাবে আক্রান্ত হলে আব্দুল্লাহ কোনো কিছু না ভেবে তাঁকে উদ্ধারে এগিয়ে যান। এ সময় তিনি নিজেও বিষাক্ত কেমিক্যালের সংস্পর্শে আক্রান্ত হন। পরে ঘটনাস্থলেই আব্দুল্লাহসহ আরও তিনজন বিদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয় বলে পরিবারের কাছে খবর আসে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমার ভাই সব সময় খুব পরোপকারী ছিল। নিজের কথা না ভেবে বিপদে পড়া সহকর্মীকে বাঁচাতে এগিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেই চেষ্টাই শেষ পর্যন্ত তার প্রাণ কেড়ে নিল।’ আব্দুল্লাহর মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকেই শোকের মাতম চলছে। বৃদ্ধ মা-বাবার আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে দুর্বাটি গ্রামের বাড়ির পরিবেশ। স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, স্ত্রী-সন্তান ও মা-বাবার ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করছিলেন আব্দুল্লাহ। পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি দেওয়া এই যুবকের আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। আব্দুল্লাহর স্ত্রী বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। তাঁদের আড়াই বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বাবার মৃত্যুর অর্থ বোঝার বয়সও হয়নি ছোট্ট মেয়েটির। অন্যদিকে অনাগত সন্তানটিও পৃথিবীর আলো দেখার আগেই বাবাকে হারিয়েছে।
এদিকে সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়ে আব্দুল্লাহর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রিয়াদে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোকার্ত পরিবার আব্দুল্লাহর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি তাঁর অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা কামনা করেছে।